বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে দু'দেশের সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কৌশলগত প্রস্তুতি চলছে। তবে সীমান্তে নতুন করে সেনাচৌকি নির্মান, বাংকার খনন, সৈন্য সমাবেশ ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে শুরু করেছে মিয়ানমার।
এ অবস্থায় শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গা ও সীমান্তবর্তী বাংলাদেশীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করে মাঠ পর্যায়ে কাজ এগিয়ে নিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের ঢেকুবোনিয়ায় বিজিপি ক্যাম্পে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চলমান প্রত্যাবাসনের আওতায় প্রথমেই দুদেশের শূণ্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে মিয়ানমার।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারে নিযুক্ত সাত দেশের রাষ্ট্রদূতসহ সরকারি কর্মকর্তারা কাঁটাতারের কাছে গিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে আসার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। কিন্তু, নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি না হলে, নিজ দেশে ফিরতে নারাজ তারা।
এদিকে, প্রতিদিনই মাইকিং করে নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সরে যেতে বলছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
এক সপ্তাহ ধরে তুমব্রু সীমান্তে নতুন আটটি সেনাচৌকি বসিয়েছে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এসব সেনাপোস্ট থেকে প্রতিঘন্টা পর পর নো ম্যানস ল্যান্ডকে দেশটির মংডু রাজ্যের অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বাঙালি আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
এছাড়াও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বাংকার খনন ও সৈন্য সমাবেশ করেছে মিয়ানমার সেনাবাহীনি। এতে আতঙ্কে রয়েছে নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা।
এ অবস্থায়, নিরাপদ পরিবেশ ও ফিরে যাবার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই কেবল মিয়ানমারে ফিরতে চান নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।