২৮ ফেব্রুয়ারি—সুন্দরগঞ্জ ট্রাজেডির পাঁচ বছর। ২০১৩ সালের এ দিনে মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তাণ্ডব চালায় জামাত-শিবির সমর্থকরা। বামনডাঙ্গায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় চার পুলিশ সদস্যকে।
আগুন ধরিয়ে দেয় বামনডাঙ্গা রেলস্টেশন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও, এখনো শেষ হয়নি পুলিশ হত্যা মামলার বিচার কাজ।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি—একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় তাণ্ডব চালায় জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পুড়িয়ে দেয় রেলস্টেশন, লুটপাট করে দোকানপাট, আগুন ধরিয়ে দেয় বেশ কিছু স্থাপনায়।
রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে তারা পিটিয়ে হত্যা করে চার পুলিশ সদস্যকে। এতে আহত হয়েছিলেন পুলিশের আরো ১৮ জন সদস্য।
পুলিশ হত্যার ঘটনায় তৎকালীন সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আবু হানিফ, গাইবান্ধা- ১ আসনের জামাত দলীয় সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুল আজিজসহ ৮৯ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাত দুই হাজার পাঁচশো জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আব্দুল আজিজসহ ২৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। বর্তমানে এসব আসামির মধ্যে ২২৭ জন জামিনে রয়েছে। জেল হাজতে রয়েছে মাত্র দুই জন আর আব্দুল আজিজসহ ছয় জন পলাতক।
আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় এখনো মামলার বিচার কাজ শেষ হয়নি। ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মামলার মূল আসামিরা। অপরাধীদের শাস্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজনরা।
তবে চলতি বছরেই মামলাটির বিচার কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচার কাজ শেষ হবে এমনটাই প্রত্যাশা গাইবান্ধাবাসীর।