সামান্য বৃষ্টিতেই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা— আর এ কারণে দুর্ভোগের শেষ নেই এলাকাবাসীর।
পর্যপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং সময়মতো ড্রেন পরিস্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
এই অবস্থায় আসন্ন সিটি নির্বাচনে জলাবদ্ধতাকে একটি বড় ইস্যু বলে মনে করছেন ভোটাররা। আর নগরবাসীর অন্যতম প্রধান এ সমস্যা সমাধানে মেয়র প্রার্থীদেরও রয়েছে নানা পরিকল্পনা।
গাজীপুর সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকাটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেই খ্যাত। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় এ এলাকা আর মহাসড়কে জমে হাঁটু পানি।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই পথটুকু গাড়িতে পার হতে সময় লাগে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। বর্তমান সময়ে লাগছে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। ভয়াবহ যানজটের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট আঞ্চলিক সড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কেও একই চিত্র।
সড়ক-মহাসড়কে গর্ত, দুই পাশে নালা আর আবর্জনার স্তূপ রয়েছে বলে জানান পরিবহন নেতা সুলতান উদ্দীন সরকার।
তিনি বলেন, ফলে যানবাহন ও নাগরিকদের চলাচল করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই।
একই অবস্থা ছয়দানা, কলমেশ্বর, গাছা, বোর্ডবাজার, টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকার। একটু বৃষ্টি হলেই এ এলাকার লাখো মানুষ হয়ে পড়েন পানিবন্দি।
গাজীপুর সিটিতে ৬৭০ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে। তবে এসব ড্রেনের বেশিরভাগই অকেজো এবং ভাঙাচোরা।
চৌরাস্তা থেকে কড্ডার তুরাগ নদী পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে একটি খাল খনন করা হলেও দখল হয়ে যাওয়ার কারণে সেটির অস্তিত্ব এখন আর নেই।
এভাবে আরো অনেক খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাষণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে
বছরের বেশিরভাগ সময়ে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। তাই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যারা এই সমস্যা সমাধানে জোর দেবে তাদেরকেই ভোট দিতে চান ভোটাররা।
আর প্রার্থীরাও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টার প্ল্যান নেয়া হয়েছে— নির্বাচিত হলে সেই পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা হবে।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন খুব কঠিন কাজ নয়— নির্বাচিত হলেই এ নিয়ে কাজ করবেন।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫৭ ওয়ার্ডের এই সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।