দেশীয় শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মুখে ৮ দিন পর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চীনা শ্রমিক দিয়ে কয়লা উৎপাদন সোমবার শুরু হয়েছে।
সকাল ৬টা থেকে খনির এমপিএমঅ্যান্ডপি (উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রভিশনিং সার্ভিসেস) চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়াম চীনা শ্রমিক দিয়ে কয়লা উৎপাদন শুরু করে।
এদিকে, বকেয়া বেতন ভাতা প্রদানসহ ১৩ দফা দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারিদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, খনিতে তিন শতাধিক চীনা শ্রমিক-প্রকৌশলী রয়েছেন। দেশীয় শ্রমিক ৮ দিনেও কাজে না ফেরায় চীনা শ্রমিক-প্রকৌশলী দিয়েই প্রতিদিন এক শিফটে কয়লা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়াম।
এমডি আরও বলেন, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে গতকাল সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, জ্বালানি সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তার আগে শ্রমিকদের কাজে ফিরতে হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, বকেয়া বেতন ভাতা প্রদানসহ ১৩ দফা দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারিদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি নবম দিন- সোমবারও অব্যাহত রয়েছে।
আউট সোসিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ, বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান ও প্রফিট বোনাসসহ ১৩ দফা দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি রয়েছে।
গতকাল সকালে শ্রমিকরা খনি গেটে অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ওই দিন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে খনি কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় শ্রমিক নেতারা।
শ্রমিকদের লাগাতার কর্মবিরতিতে খনি কয়লা উৎপাদন সম্পূর্ণরুপে বন্ধ ছিল।
গত মঙ্গলবার খনি গেটে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) কর্মকর্তাদের মারপিট ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে শ্রমিকদের দাবির সাথে ‘ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটি’ একাত্মতা প্রকাশ করে মিছিল করে।
উল্লেখ্য, আউট সোসিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ, বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান ও প্রফিট বোনাসসহ ১৩ দফা দাবিতে গত রোববার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা।