রক্তনালীতে টিউমার রোগে আক্রান্ত বহুল আলোচিত সাতক্ষীরার কন্যা শিশু মুক্তামনি বুধবার মারা গেছে।
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম গাজী ও মা আসমা খাতুন বলেন, সকাল ৭টা দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের নিজবাড়িতে সে মারা যায়। এসময় তারা (মা ও বাবা) ছাড়াও মুক্তামনির বোন হীরামনি ও ছোট্টভাই মিকাঈল উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিল তার দাদী, প্রতিবেশী ও দু’জন গণমাধ্যমকর্মী।
মুক্তামনির পোষা শালিক পাখিটাও এ দুঃসংবাদে ছটফট করতে থাকে- যে পাখিটি মুক্তামনির সাথেই কথা বলতো। সবাইকে ডাকতো।
বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গতবছরের ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন।
ডা. সেন তার হাতে, পায়েসহ সমগ্র শরীরে অস্ত্রোপাচার করেন। রোগ নির্ণয় করে প্রকাশ করেন তার রক্তনালীতে টিউমার রয়েছে। ফলে তার পঁচা ঘায়ে আক্রান্ত মোটা হাতটি কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে হাতকাটার সিদ্ধান্তটি বাতিল করে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপাঁচার শেষে ২৪ ডিসেম্বর বাড়িতে ফেরত দেয়া হয়।
পাঁচ মাস পর যেন হাসপাতালের চিকিৎসার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরে মুক্তামনি।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।