বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘মাইল্ড স্ট্রোক করেছেন—তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যে দাবি করেছেন তা সঠিক নয় এ কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সুগার ফল করেছিল, তার চিকিৎসায় অবহেলা আমাদের কেউ সমর্থন করেন না।
রোববার দুপুরে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোকের বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজি প্রিজনের সঙ্গে কথা হয়েছে।
বিষয়টি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলেছেন— কিন্তু আইজি প্রিজন জানিয়েছেন কারাগার হাসপাতালের যে চিকিৎসক রয়েছেন তিনি তাদের অবগত করেছেন এটা সুগার ফলের বিষয়— এটি মাইল্ড স্ট্রোকের বিষয় নয়।
তারপরও খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছে— বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য যোগ করেন কাদের।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন তবে অমানবিক আচরণ করা হবে এমনটি নয়— তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসায় গাফলতির বিষয় আমরা কেউ সাপোর্ট করি না বলেন কাদের।
ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিস্থিতি ও ঈদ যাত্রা নিয়ে বলেন, যানজট সহনীয় মাত্রা এবং জনগণের সুবিধার্থে ঈদ উপলক্ষে আগামী ১২ জুন থেকে চন্দ্রা এলেঙ্গা ফোর লেনটি পুরোপুরি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
এছাড়া এ মহাসড়কের ২৩টি সেতুর ওপর দিয়েও গাড়ি চলবে—এ মুহূর্তে এটির উদ্বোধন আমরা করতে পারছি না। তবে ঈদের পরে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ গাড়ি চলাচল বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কের জন্য যানজট হবে না। ফিটনেস বিহীন গাড়ি এবং রং সাইড ব্যবহার করার কারণে সড়ক বন্ধ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসময় মন্ত্রী সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, ডিআইজি আতিকুর রহমান, গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী ডিকেএন নাহিন রেজা, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার শফিকুর ইসলাম।
প্রসঙ্গত:
গতকাল কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখে এসে তার এক চিকিৎসক জানান চেয়ারপারসনের ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন সরকারের অনিচ্ছাতেই তার জামিন বিলম্বিত হচ্ছে।
গতকাল বিকালে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদার জিয়ার সঙ্গে দেখা শেষে তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী এ তথ্য জানান সাংবাদিকদের।
দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় পর বেরিয়ে এসে তাদের পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি বলেন, গত ৫ জুন তিনি হঠাৎ করে পড়ে গিয়েছিলেন ওই সময়টার কথা বলতে পারেননি তিনি। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে বলে আমরা ধারনা করছি।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে সুপারিশ করেন তারা।
অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে চার পৃষ্ঠার একটি সুপারিশমালা কারা কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উনার- বিএনপি চেয়ারপারসনের কথায় কিছুটা জড়তা আছে তবে কমিউনিকেশন করতে পারছেন।
অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ মামুন।
বিকাল ৪টায় কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই চার চিকিৎসক প্রধান ফটক দিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পাঁচ দফা আবেদন জানানোর পর এ প্রথম অনুমতি পেলেন।
শুক্রবার রাতে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিকট আত্মীয়রা দেশনেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে তার (খালেদা জিয়া) সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা হৃদয়বিদারক। তারা বলেছেন, গত ৫ জুন দেশনেত্রী দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন, তিন সপ্তাহ যাবত তিনি ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনো ক্রমেই থামছে না।
চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসার দাবিতে রোববার সারাদেশে জেলা-মহানগরে ও ঢাকায় থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি।
গত মার্চের শেষে খালেদা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার।
চার সদস্যের ওই বোর্ডের সদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা ‘গুরুতর নয়’।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি রয়েছেন।