ধরলা ও তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় দেশের উত্তরাঞ্চলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
তবে, তিস্তা নদীর পানির তোড়ে লালমনিরহাট জেলায় নদী তীরের বেশ কয়েকটি গ্রামে এরই মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষেরা।
উজানের পাহাড়ী ঢলে ধরলা ও তিস্তার পানি বেড়ে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি ২৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলা সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় ১৫টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি জীবন-যাপন করছেন। এসব এলাকার কাঁচা সড়ক তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এদিকে, তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় লালমনিরহাট জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জেলা সদর, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার ১৮টি গ্রামের মানুষও পানিবন্দি জীবন-যাপন করছেন।
এতে ১৮টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পানির প্রবল স্রোতে নদী তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকার ঘরবাড়ী ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে সদর উপজেলার বাগডোরা গ্রাম।
এরই মধ্যে পানিবন্দি ও ভাঙন কবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী পয়েন্ট ডালিয়া ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।