বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে নিট অ্যান্ড নিটেক্স গার্মেন্টের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন—এর ফলে এ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রোববার সকাল থেকেই গাজীপুর মহানগরীর ডেকেরচালা এলাকায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নিট অ্যান্ড নিটেক্স গার্মেন্টের শ্রমিকরা। এসময় বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানা ভাঙচুর করেন তারা।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানান, গত কোরবানির ঈদের সময় তাদের আগস্ট মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করা হয়। বাকি অর্ধেক বেতন সেপ্টেম্বরের শুরুতে পরিশোধের কথা থাকলেও এখনও দেয়া হয়নি।
শনিবার রাত ১০টার দিকেও তারা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু এর মধ্যেই শনিবার রাতে কারখানার পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানা ভাঙচুর করেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, আশপাশের কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এদিকে, কারখানার শ্রমিক আমেনা বেগম বলেন, বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধের পাঁয়তারা করছিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের যাতে বেতন না দিতে হয়, সেজন্য কৌশলে তারা ট্যাংকের পানির সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। ওই পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর জের ধরে নিট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেডের কর্মীরা রোববার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
এর মধ্যে পানি খেয়ে অসুস্থ কয়েকজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
এ সময় নিটেক্স কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাংচুর চালানো হয়। আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা পরে বিক্ষোভে যোগ দিলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের বড় একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ কয়েক দফা শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশকে টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।