চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ মাস পর দেশের চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়েছে— তবে এ মজুরিতে সন্তুষ্ট নয় চা শ্রমিকরা।
তাদের অভিমত, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে বাড়তি ১৭ টাকা তাদের কোনো কাজেই আসবে না।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি সালেহ এলাহী কুটিরের রিপোর্ট।
মৌলভীবাজার জেলায় চা বাগান রয়েছে ৯৩টি। এসব বাগানে নিয়মিত চা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯২ হাজার। আর অনিয়মিত চা শ্রমিক রয়েছে ৪০ হাজার।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চা শ্রমিকেদর মজুরি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে শ্রমিকরা তাদের দৈনিক মজুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দাবি জানায়।
আর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এ মজুরি ২৩০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
এ অবস্থায় গত ২৭ আগস্ট চা-শ্রমিক নেতা, চা-বাগান মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতে বেতন-ভাতা ও বোনাসের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান চা বাগান মালিক মহসীন মধু ও বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান জিএম শিবলী।
চুক্তি অনুযায়ী একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০২ টাকা, বোনাস ২ হাজার ৭২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর মাসিক বেতনধারী শ্রমিকের বেতন ৩ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অস্থায়ী শ্রমিকরা স্থায়ী বা মাসিক বেতনধারী শ্রমিকের সমান মজুরি পাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে নতুন নির্ধারিত বেতন কাঠামোতে সন্তুষ্ট না সাধারণ চা শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী জানিয়েছেন, মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুবিধাদির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে আরেকটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে এবং চুক্তি হলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।