বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত মানুষ। মিয়ানমারে তারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড বিখ্যাত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
তিনি বলেন, তারা (রোহিঙ্গারা) অসহায় হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই নাগরিকত্বসহ সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। দ্বিতীয়দিনের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এ অভিনেত্রী।
এসময় জোলি বলেন, আমি রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি, এক নারী আমাকে জানিয়েছেন, আমাদের এখানে গুলি করে মেরে ফেললেও তবুও এখন থেকে ওই দেশে যাবো না। তার এ কথায় আমি বুঝতে পেরেছি- মিয়ানমারে এখনও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে।
হলিউডের অভিনেত্রী ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’এর বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আজও কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানকার শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন তিনি।
পরে কুতুপালং ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিলিফ ইন্টান্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। একই ক্যাম্পে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন জোলি।
দুপুরে কুতুপালং ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি।
এর আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সোমবার দুই দিনের জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছান। পরে দুপুর ২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল ২১নং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।
সেখানে নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের কাহিনি শুনেন। আগামীকাল (বুধবার) সকালে ঢাকার পৌঁছাবেন তিনি।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার নামেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের ইনানীতে তারকামানের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে তিনি চলে যান টেকনাফের চাকমারকুল শরণার্থী শিবিরে।
জোলি ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হিসেবে চারদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। পরেরদিন তিনদিনের সফরে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন তিনি।