রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গহীন পাহাড়ে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও প্রশাসন এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বুধবার উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের পিজক পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপ ও জেএসএস সংস্কারপন্থিদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বান্দরবান সীমান্ত ঘেঁষা রাঙামাটির পিজক পাড়ায় বুধবার ভোরে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল জেএসএস ও জেএসএস সংস্কারপন্থিদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে জেএসএস সংস্কারপন্থির সাত সদস্য নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাহবুবুল আলম বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি তবে কোনো মরদেহ পাইনি।
এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে’ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
র্যা ব ৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাফ উদ্দিন জানান, বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার লেমুছড়ি এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।
তার নাম জ্ঞানশংকর চাকমা।
র্যা ব ৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাফ উদ্দিন জানান, বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার লেমুছড়ি এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তের কাছে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত জ্ঞানশংকর চাকমার (৪৫) বাড়ি রাঙামাটি জেলায় বলে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তার ঠিকানা বলতে পারেননি তিনি।
সেনাবাহিনীর বান্দরবান অঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শাহিদুল বলেন, বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে জড়িতরা সীমান্তে অবস্থান নেয়ায় সেখানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেনাসদস্য, র্যা ব ও বিজিবি সদস্যরা অংশ নেন।
এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হলে জ্ঞানশংকর চাকমা নিহত হন।
পরে ওই এলাকা থেকে সাতটি এসএমজি, ১১টি ম্যাগজিন, ৪৩৭ রাউন্ড গুলি ও চার লাখ ৩৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে নির্বাচনী কাজ শেষে প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্যরা খাগড়াছড়ি ফেরার পথে ব্রাশ ফায়ারে সাত জন নিহত হন।