ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের হত্যাকারীদের বোরকা ও হাতমোজা কিনে সরবরাহ করেছিল একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মনি ও পপি।
আদালতে দেয়া এক জবানবন্দিতে তারা এ কথা স্বীকার করেছে।
তারা জানায়, আরেক আসামি শাহাদাতের দেয়া দুই হাজার টাকা দিয়ে পপির মাধ্যমে মনি দুটি বোরকা ও হাতমোজা কিনে।
এদিকে, নুসরাত হত্যার বিচারের দাবিতে আজও-মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন হয়েছে।
ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গত ১৯ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও ২০ এপ্রিল কামরুন নাহার মনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে তারা জানায়, গত ২ এপ্রিল পপির মাধ্যমে শাহাদাত হোসেনের দেয়া ২ হাজার টাকায় ওই দিনই সোনাগাজী বাজারের মানিক প্লাজা থেকে এক হাজার ৯৮০ টাকা দিয়ে ২টি কালো রঙের বোরকা কিনে মনি।
পরে বড় মসজিদের কাছে ফুটপাতের দোকান থেকে কালো রঙের ৪ জোড়া হাতমোজা নেয় সে।
৬ এপ্রিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের কক্ষে ঢুকে শামীম, জাবেদ ও জুবায়েরকে বোরকা ও মোজা দেয় মনি। ঘটনার দিন বোরকা ও হাতমোজা পরে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় তারা।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আর ৮ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো মানববন্ধন-সমাবেশ চলছে। একই দাবিতে ন্যাশনাল চিলড্রেন'স টাস্কফোর্স নড়াইল জেলা শাখা সকালে নড়াইল সদরের শিবশংকর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানবন্ধনের আয়োজন করে।
পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মরকলিপি দেয়া হয়।
এছাড়াও নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মানববন্ধন হয়েছে। সদরের ডিবি রোডে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গাইবান্ধা জেলা শাখা।
গত ৬ এপ্রিল আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে বোরকা পরা ৪/৫ ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান।
সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।