ভাড়া নিয়ে তর্কে পাবনার ঈশ্বরদীতে এক যুবককে চলন্ত বাস থেকে ফেলে হত্যা করেছে কন্ডাক্টর। লালন শাহ ব্রিজের টোল প্লাজার কাছে বৃহস্পতিবার রাতে ওই যুবককে ফেলে দেয়া হলে ওই বাসের চাকাতেই পিষ্ট হন তিনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে রাতেই মারা যান।
ওই যাত্রীর নাম সুমন হোসেন (৩৪)। তিনি পাকশীর ঝাউতলা এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে। সুমন এলাকায় মুদি দোকান চালাতেন।
সুমনের চাচাতো ভাই লিটন জানান, সুমন মেহেরপুর থেকে সনি পরিবহনের একটি বাসে ঈশ্বরদীতে আসছিলেন। বাসের মধ্যে ভাড়া নিয়ে কন্ডাক্টরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পথে সুমন বাস থেকে নেমে যেতে চাইলেও কন্ডাক্টর ও চালকের সহকারী (হেলপার) তাকে নামতে দেয়নি। একপর্যায়ে বাসের মধ্যেই তাকে মারধর করে। সুমন ফোন করে বাড়িতে বিষয়টি জানিয়েছিল।
লিটন আরও বলেন, রাত ৯টার দিকে বাসটি লালন শাহ সেতু পার হয়ে টোল প্লাজার কাছে এসে গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। এ সময় কন্ডাক্টর চলন্ত অবস্থাতেই সুমনকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাস্তায় পড়ে সুমন ওই বাসের নিচেই চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রামেক হাসপাতালে নিতে বলেন। রাজশাহী যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টায় সুমনের মৃত্যু হয়।
বিকাল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় রামেক হাসপাতাল মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত চলছিল। সুমনের শ্যালক শফিক এ সময় যুগান্তরকে বলেন, লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের পর মামলা করা হবে।
পাকশী হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের পাশের ভবনের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে বাসটি শনাক্ত করা গেছে। চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপারকে ধরতে এবং বাসটি জব্দ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নেমেছে।
পাকশী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বিকালে যুগান্তরকে বলেন, ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের সদস্যরা মামলা করলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ওই বাসটি পরে পাবনায় না গিয়ে ঘুরে মেহেরপুরে চলে যায়। প্রয়োজনে সেখানেও অভিযান চালাবে পুলিশ।