বরগুনায় জুয়াড়িদের পিটুনিতে সাইফুল ইসলাম সবুজ (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবুজ বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ কদমতলা গ্রামের ফারুক ওরফে আদার পহলানের ছেলে। সবুজ ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তেন। করোনার কারণে কয়েকদিন আগে বাড়ি এসেছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, করোনায় ঘরে থাকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢলুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ভোগ গ্রামের অতুল হাওলাদারের বাড়ির পুকুর পাড়ে বুধবার দুপুরে জুয়া খেলছিলেন চার যুবক। ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আবদুস সালাম বিষয়টি বরগুনা থানা পুলিশকে জানালে থানার এসআই হেলালের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কুদ্দুস পহলানের ছেলে রাজা পহলান (৩২), অতুল হাওলাদারের ছেলে বাসুদেব (৩৭), আফজাল হোসেনের ছেলে হাবিল (২২) ও আলতাফ হোসেন মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লাকে (২৪) ধরে বরগুনা ইউএনও অফিসে নিয়ে আসেন।
বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে করোনায় ঘরে থাকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগে তাদের সাড়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেন।
পরে তারা এলাকায় ফিরে গিয়ে সন্ধ্যার পরে পুলিশে খবর জানানোর অভিযোগ তুলে এলাকার লোকজনকে মারধর শুরু করেন। তাদের পিটুনিতে সবুজ মারাত্মক আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়।
বরগুনা থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, উভয়পক্ষের সংঘর্ষে আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।/সমকাল