ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে কংশ নদীর বালু দখলকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় স্বদেশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইরাদ হোসেন সিদ্দিকীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সীমান্তবর্তী উপজেলার ১২ নম্বর স্বদেশী ইউনিয়নের গাজীপুরা এলাকায় কংশ নদী থেকে উত্তোলন করা বালু রাখা হয় গ্রামের আবদুল কাদির মণ্ডলের (৬৫) জমিতে। কাদির নিজেও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি উত্তোলিত ওই বালু স্বদেশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইরাদ হোসেন সিদ্দিকী কয়েকবার নিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। সর্বশেষ বুধবার বিকেলে নিজের দলবল নিয়ে ওই জমি থেকে বালু সরিয়ে নিতে যান ইউপি চেয়াম্যান ইরাদ। কিন্তু তাকে বালু সরাতে নিষেধ করেন আবদুল কাদির মণ্ডল ও তার লোকজন। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আবদুল কাদির মণ্ডলকে উপর্যুপরি কোপায় চেয়ারম্যানের লোকজন। এছাড়া আবদুল কাদির পক্ষের শরাফ উদ্দিন, কাদিরের ছেলে দোলন ও ফরিদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাদের উদ্ধার করে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে চিকিৎসক কাদিরকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. ইরাদ হোসেন সিদ্দিকী। কংশ নদী থেকে উত্তোলন করা বালু দখলে নিতে চাইলে তা দিতে অস্বীকার করে কাদিরের লোকজন। এ কারণে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বালু দখল নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন হামলা চালায়। এতে একজন নিহত হয়েছে। ঘটনার পরপর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে সাধুরবাজার এলাকার থেকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইরাদ হোসেন সিদ্দিকীকে ২ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। / সমকাল