নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মামলায় খোকন সাহাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
প্রধান আসামি করা হয়েছে কানাডা প্রবাসী প্রদীপ দাস নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি কানাডা থেকে প্রচারিত ‘হিন্দু লাইভ মেটারস’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের প্রকাশক ও সঞ্চালক।
ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে মিথ্যা, মানহানিকর, উসকানিমূলক, ভিত্তিহীন সংবাদ ও ছবি প্রকাশ-সম্প্রচার করা এবং সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ মামলাটি করা হয়।
সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে গিয়ে মামলার আবেদন করেন মেয়র আইভী। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
তার পক্ষে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আফজার হোসেন ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ আতাউর রহমান শুনানিতে অংশ নেন। বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করার নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি। এ মামলার খবরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মামলায় মেয়র আইভী অভিযোগ করেন, মামলার ১ নম্বর আসামি প্রদীপ দাস গত বছরের ১২ আগস্ট তার ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদীদের হাতে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হিন্দু সম্প্রদায়ের খবর প্রকাশ করেন। সেখানে দাবি করা হয়, হিন্দুরা বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, জোর করে বিয়ে, ধর্মান্তরিত, ভূমি দখল ও অন্যান্য বিষয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। একই ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৩ নভেম্বর অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, মেয়র আইভীর দখলে হাজার কোটি টাকা মূল্যের হিন্দু সম্পত্তি। মন্দিরের সেবায়েত গুম। আতঙ্কে হিন্দুরা। নাসিক মেয়রের দাদা মাহাতাব উদ্দিন ও তার পরিবার হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে আছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এই দখলদারদের মনোনয়ন দেবেন না।
মেয়র আইভী বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে রেখেছি। তাছাড়া সংশ্নিষ্ট মন্দিরের সেবায়েত নিখোঁজ বা গুম। অথচ সে গুম হয়নি। এই নির্লজ্জ মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিকার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। / সম