কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বাস্থ্যসচিব মো. আ. মান্নানের গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদের সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা কটিয়াদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আশরাফুল আলমকে সেসময় পুকুরে ফেলে দেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যসচিব মো. আ. মান্নানের অভিযোগ, ‘নূর মোহাম্মদের নির্দেশে তার লোকজন নির্মানাধীন একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার পর হামলা ও ভাংচুর চালায়।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নূর মোহাম্মদ বলেছেন, ‘সচিব সরকারি চাকরিবিধি অমান্য করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, স্বাস্থ্য সচিব মো. আ. মান্নানের গ্রামের বাড়ি কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর গ্রামে তার বাড়ির পেছনে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ চলছে। তিনি শনিবার সেই কাজ দেখতে গেলে নূর মোহাম্মদের সমর্থকেরা ক্লিনিকে হামলা ও ভাংচুর করে।
সে সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার আশরাফুল আলমসহ বেশ ক’জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় সচিব নিজের ঘরে ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ ছিলেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এলাকায় এমন একটি উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, সেটি জানতেন না তিনি। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে সচিববের কাছে জানতে গেলে তার লোকজন খারাপ আচরণ করেন।’
ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন সচিব আ. মান্নান। গত বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসেন স্বাস্থ্য সচিব।
আগামীকাল রোববার জেলার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জিহাদুল কবীর। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানান তিনি। / চ্যা.আই.