খুলনা নগরীর প্রাইমারি টিচারার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মহিলা হোস্টেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত গৃহবধূকে (২২) ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশের এএসআই মোখলেছুর রহমানকে (৪৪) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কেএমপি’র অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার (১৮ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মহানগর পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করছে।
নির্যাতিত গৃহবধূ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) খুলনা সদর থানায় নির্যাতিত গৃহবধূ বাদী হয়ে এএসআই মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত এএসআই মোখলেছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা থানার এসআই আবু সাঈদ বলেন, এএসআই মোখলেসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (১৭ মে) আদালতে পাঠানো হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান কেএমপির কোর্ট সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনার পিটিআই’র মহিলা হোস্টেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ১ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি যশোর সদরের দৌলদিহি এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ঘটনাটি মহানগর পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন তদন্ত করছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনা সত্য বলে মহানগর পুলিশ জানতে পেরেছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে থেকে ভারত থেকে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হচ্ছে। খুলনার বিভিন্ন হোটেল, সরকারি-বেসরকারি ১২টি প্রতিষ্ঠানকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার বানানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে খুলনার ১২টি প্রতিষ্ঠানে ৩৭৫ জন ভারতফেরত নাগরিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। / রাইজিং