প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন সড়কের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ ধংসকারী এমন কাজের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক আটটি বেসরকারি সংগঠন। আজ শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সরকারের কাছে এ দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নে কর্তিমারী নৌঘাটে ব্রহ্মপুত্রের ওপর একটি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের কোনো পর্যায়ের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক সেতু নির্মাণের সঙ্গে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ব্রহ্মপুত্র থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা ট্রাক্টর দিয়ে সহজে ও স্বল্প খরচে পরিবহনের জন্য বালু উত্তোলনকারী ও ট্রাক্টর মালিকরা নিজেদের টাকায় পরিবেশবিনাশী সড়কটি নির্মাণ করছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, বছরের অধিকাংশ সময় ব্রহ্মপুত্রের বুক থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর বন্যার পরপরই ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে নদতীরবর্তী বহু পরিবার বসতি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পয়ে পড়ছে। এছাড়া নদের ভাঙনে চাক্তাবাড়ি-ধনারচর রাজিবপুর বেড়িবাঁধের একাংশ ধসে গেছে। এভাবে গত ১০ বছরে কয়েকটি মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনাসহ শত শত হেক্টর ফসলি জমি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তিমারী নৌঘাটে সড়কটি নির্মিত হলে ব্রহ্মপুত্রের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত ও নৌ চলাচল বন্ধ হবে। একই সঙ্গে বেড়ে যাবে বালু উত্তোলনের মাত্রাও। ফলে বিরাজমান সংকট বহুগুণ বেড়ে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন-নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুর রহমান সেলিম, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের মহাসচিব মাহবুল হক, প্রভারটি ইমুলিনেশন এ্যাস্ট্যিান্স সেন্টার ফর এভরিহোয়্যার (পিস) মহাসচিব ইফমা হুসেইন, মিডিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড এনভায়রনমেন্টের (মেড) নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সবুজ ও যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরী।