অবশেষে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো বিক্রি করা সন্তান। মানবিক এই কাজটি করেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন। সন্তানকে বেচে হাসপাতালে পাওনা মেটালেন মা- এমন শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নেয়।
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে নিজ সন্তানকে বিক্রি করে দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন হতদরিদ্র তামান্না আক্তার। ঘটনাটি সারাদেশে তোলপাড় তৈরি হলে বিক্রি করা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় মতলব উত্তরের ষাটনল এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী শরিফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, 'সন্ধ্যায় শিশু বিক্রির বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি), মতলব উত্তর থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালাই । পরে উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নে শিশুটি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করি।'
শরিফুল হাসান আরও জানান, শিশু কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত উভয় পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় যে, তারা সম্মতির ভিত্তিতেই এটা করেছেন। এ অবস্থায় শিশুটিকে তার বলে দাবি করবেন না, এই মর্মে মুচলেকা নিয়ে প্রকৃত মায়ের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শিশুটির মায়ের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় গ্রামের দিনমজুর মো. আলমের স্ত্রী তামান্না বেগমের (২৮) প্রসববেদনা উঠলে তিনি গত ২৬ জানুয়ারি ছেংগারচর পালস্ এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পুত্রসন্তান জন্ম দেন তামান্না। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকেন তিনি।
রিলিজের সময় হাসপাতালে বিল আসে ২৬ হাজার টাকা। ওই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন তামান্না বেগম। এ অবস্থায় ছেংগারচর বাজারের কাউসার নামে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ওই সন্তানকে বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তামান্না। সন্তান বিক্রির পর ওই মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
অবশ্য পালস এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফুল ইসলাম বলেন, 'সিজারিয়ান অপারেশন আমাদের এই হাসপাতালে হয়েছে। কিন্তু বাচ্চা বিক্রির বিষয়টি আমরা জানি না।'