অবশেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা কর্মবিরতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে কাজে যোগ দেন তারা। এর আগে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।
গত বুধবার রাত ১০টা থেকে কর্মবিরতিতে যান হাসপাতালটিতে কর্মরত ইন্টার্নরা। হাসপাতালটির গাইনি বিভাগে ২৬ নভেম্বর ইন্টার্ন ও মেডিকেল অফিসারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এরপর ২৩ জানুয়ারি ৬ ইন্টার্নকে শাস্তি এবং মেডিকেল অফিসারকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। তারপর ২৬ জানুয়ারি ৬ ইন্টার্নকে শাস্তির আদেশ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপরই বুধবার রাতে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্নরা।
ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের রোগীরা। তারপরও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেননি তারা। প্রহসনমূলক শাস্তি প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতির দাবিতে অনড় থাকেন। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ইন্টার্নদের মধ্যে বৈঠক চলে। পরে দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রত্যাহার করা হয় কর্মবিরতি। কাজে ফেরেন চিকিৎসকরা।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মীর এম এম বিল্লাহ্ তকী বলেন, ‘আমরা কর্মবিরতি অবসান করে কাজে যোগদান করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তাদের আশায় আমরা নিজ নিজ ওয়ার্ডে কাজ করছি।’ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোমিনুর রহমান বলেন, ফলপ্রসূ আলোচনার পর সবাই কাজে যোগ দিয়েছে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ আর হবে না। পুরোদমে এখন চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে।
তবে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ইন্টার্নরা অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই চিকিৎসককে পেকুয়ায় বদলি করা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে। আর যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা কর্মবিরতি না আসে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিনই রোগী ভর্তির সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় কয়েকগুণ।