মুন্নীকে প্রায়ই বিরক্ত করতো নাটোরের বড়াইগ্রামের যুবক জহুরুল। দিত নানা কুপ্রস্তাব। দাম্পত্য কলহের কারণে মুন্নী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এই দুর্বলতার সুযোগ বুঝে মুন্নীকে প্রায়ই বিরক্ত করতো জহুরুল।
বিষয়টি সহ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় জহুরুলের পুরষাঙ্ক কেটে দেয় মুন্নী। মুন্নীর পরিবারের অভিযোগ মুন্নীকে ধর্ষন করতে এসেছিল জহুরুল এ সময় মুন্নী আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করলে এক ফাকে জহুরুলের পুরুষাঙ্ক কাটা পড়ে। সোমবার (৮ ফেব্রয়ারি) রাত ১০ টায় নাটোর জেলার বড়াইগ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
থানা সূত্র জানায়, সোমবার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বিরাজ উদ্দিনের ছেলে জহুরুল ইসলামের (৩৫) পুরুষাঙ্গ ছুরি দিয়ে কেটে দেন ওই নারী। রাতেই ওই যুবককে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়ার অভিযোগে মুন্নী বেগম (২৪) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জলশুকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মুন্নির মা গুলজান বেওয়া সাংবাদিকদের বলেন, দাম্পত্য কলহের কারণে মুন্নী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে আমার বাড়িতে বসবাস শুরু করে। সেই সুযোগে মাদকাসক্ত জহুরুল আমার মেয়েকে প্রায় কুপ্রস্তাব দিত। তার নিয়মিত উত্যক্তে বিরক্ত হয়ে পড়ে আমার মেয়ে। পরে সোমবার রাতে বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে আবার কুপ্রস্তাব দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে জহুরুলের পুরুষাঙ্গ ছুরির আঘাত লেগে কেটে যায়।
বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, এ ব্যাপারে জহুরুলের বাবা বাদী হয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মুন্নী বেগম ও জহুরুল ইসলাম পূর্বপরিচিত। সোমবার রাতে জহুরুল ইসলামকে মুন্নী মোবাইল ফোনে তার বাবার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে কৌশলে ছুরি দিয়ে জহুরুলের বিশেষ অঙ্গ লিঙ্গ কেটে দেন এবং হত্যার চেষ্টা করেন। অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে মুন্নী বেগমকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে।