টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। শপথের পর একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আইভীকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। পরে নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
শপথের পর সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া জানান আইভি। বলেন, আশা করি আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব। সমন্বয়হীনতাকে কীভাবে সমাধান করা যায় এই চিন্তাভাবনা কিন্তু স্থানীয় সরকারও করছে। সেইভাবে বিভিন্ন সময় নানা নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা থেকে নারায়ণগঞ্জ ওয়াসা নিয়ে নিয়েছি। আমরা প্রতিটা ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে দেওয়ার চেষ্টা করবো।
নগরবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে আইভী বলেন, আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দল আমাকে নৌকা মার্কা দিয়েছিল যার ফলে নারায়ণগঞ্জবাসী আস্থা রেখে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে।
সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহমেদ চুনকার মেয়ে। বিদেশে চিকিৎসা বিদ্যায় পড়াশোনা শেষে ২৫ বছর আগে দেশে ফিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নামেন। বিএনপি শাসনামলে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে জিতেন তিনি। পরে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম ভোটে তিনি মেয়র পদে জয়ী হন। ২০১৬ সালের ভোটেও বিজয়ী হন আইভী। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের নেতা শামীম ওসমান যিনি এক সময়ের প্রভাবশালী খানসাহেব ওসমান আলীর নাতি।
একদিকে খান সাহেব ওসমান আলী পরিবার, আরেকদিকে আলী আহমেদ চুনকা পরিবার। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এই দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব অনেক দিনের। দুই পরিবারের এ বিরোধে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি বিব্রত হচ্ছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও। এতে লাভ হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের।
খান সাহেব নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দাদা। আলী আহমেদ চুনকা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাবা। ১৯৭২ সালে শহর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সময় ওসমান ও চুনকা পরিবারের বিরোধ আর চাপা থাকেনি।
১৯৭৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে আবারও দ্বন্দ্ব দেখা দেয় দুই পরিবারে। তার পর থেকে এই দ্বন্দ্ব আর দূর হয়নি। কখনও প্রকাশ্যে, কখনও পরোক্ষে এই দ্বন্দ্ব-বিরোধ আজও রয়ে গেছে। ১৯৭৩ সালে পৌরসভা নির্বাচনে আলী আহমেদ চুনকা আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত করেন খোকা মহিউদ্দিনকে। খোকা আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। তাতে সমর্থন ছিল ওসমান আলীর ছেলে এ কে এম শামসুজ্জোহা পরিবারের। শামীম ওসমানের বাবা এই শামসুজ্জোহা।
রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, নানা ইস্যুতে এই দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকেও বারবার প্রভাবিত করছে। বর্তমানে এই দ্বন্দ্বের একদিকে রয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী, অন্যদিকে শামীম ওসমান।