রাজশাহী নগরে অভিযান চালিয়ে ক্যাবল (তার) চুরি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে নগরের মতিহার থানাধীন কাজলা এলাকায় রুয়েটের পাশ থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে তাঁরা চুরি হওয়া তার পোড়াচ্ছিলেন।
গ্রেপ্তার দুই জন হলেন, নগরের মতিহার থানাধীন খোঁজাপুর এলাকার খোরশেদ আলীর ছেলে মো. জুয়েল আলী (২২) এবং একই এলাকার মো. হাসেমের ছেলে মো. সজিব (৩০)। তাদরে বিরুদ্ধে এই ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মামলা এজাহারের উল্লেখ করা হয়, নগরের কাজলার এলাকার অকট্রয় মোড়ের পাশে একটি চারতলা নির্মাধীন ভবন রয়েছে প্রকৌশলী মফিজুল ইসলামের। এই বাড়ির তত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন একরামুল হক।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে প্রাকৃতিক ডাকে তিনি ঘুম থেকে উঠেন। এমন সময় দেখেন ওই ভবনের আশপাশে সবার ভবনে বিদ্যুৎ আছে। কিন্তু তাঁদের নির্মানাধীন ভবনে বিদ্যুৎ নেই। এরপর তিনি বৈদ্যুতিক লাইনের সুইচ অন করে লাইট জ্বালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। এরপর অন্য লাইট জ্বালিয়ে তিনি দেখেন যে, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন নির্মানাধীন ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করে ৩৩ ক্যাবল বৈদ্যুতিক মোটা ও চিকন তার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি ধর ধর বলে চিৎকার করলে তাঁরা পালিয়ে যায়।
চুরি হওয়া তারগুলোর আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একরামুল হক তার চুরির মামলা করেন।
মতিহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে তারা দুই জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তরা রুয়েটের পাশে একটি নির্জন এলাকায় তারগুলোর উপরের রাবার স্তর পোড়াচ্ছিলেন। এ সময় তারসহ হাতেনাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ কেজি খোসা ছাড়ানো তার পাওয়া যায়। পরে মামলার বাদি তাদেরকে দেখে চিহ্নিত করেছেন।
নগরের মতিহার থানার পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান (তদন্ত) বলেন, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে তার চুরি করে আসছিলেন। তাদের একটি চক্র রয়েছে। তারগুলোর উপরের রাবার অংশ পুড়িয়ে তামা বানিয়ে তারা বিক্রি করেন। অভিযুক্ত দুই জনকে আজ শুক্রবার ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে