খবরের কাগজ খুললে প্রায়ই দেখা যায় ট্রেনে পাথর মারায় মানুষ আহতের খবর। চোখ হারানোর মতো অনেক অমানবিক ঘটনাও ঘটে থাকে মাঝে মাঝে। এবার এই বিষয়ে ভিন্নধর্মী সচেতনা সৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গায় কাজ শুরু করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
হাতে মাইক, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে কাজে নেমে পড়েছেন তারা। সরু রেলপথ ধরে হাঁটছেন। যেখানেই মানুষের জটলা দেখছেন সেখানেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। মানুষের হাতে লিফলেট ধরিয়ে মাইকে শোনাচ্ছেন সচেতনতার কথা।
ট্রেন ভ্রমণ নিরাপদ ও পাথর নিক্ষেপ বন্ধে এভাবে পায়ে হেঁটে মানুষকে সচেতন করছেন তারা। গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার দু’দিন ধরে চলে এই কার্যক্রম।
এ কার্যক্রমের মূল উদ্যোক্তা চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর বেলগাছি গ্রামের বখতিয়ার হামিদ বিপুল। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। ব্যতিক্রমী এ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে বিপুল গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ হচ্ছে ট্রেন ভ্রমণ। কিন্তু কিছু সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে সে ভ্রমণ অনিরাপদ ও শঙ্কায় পরিণত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনে পাথর ছোড়ার কারণে অনেক যাত্রী আহত ও রক্তাক্ত জখম হয়। এসব চিন্তা করেই মানুষকে সচেতন করতে বেরিয়ে পড়া। দুইদিনে ভাগ করে চুয়াডাঙ্গা থেকে উথলী এবং আলমডাঙ্গা থেকে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত মোট ৪৭.২ কিলোমিটার রেলপথ পায়ে হেঁটে হেঁটে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এতে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
গেল দুদিনে জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথে মাইকিং, লিফলেট, পোস্টারিং ও ব্যানার নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন তারা। তাদের এমন কার্যক্রমে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও।
রেলপথে পাথর নিক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সারাদেশে অন্তত ২০টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার নামও। আলমডাঙ্গা থেকে জীবননগরের উথলী পর্যন্ত রেলপথ ৪৭ কিলোমিটার। পুরোটা পথ হেঁটে কার্যক্রম চালায় আয়োজকরা।
রেললাইনের সরু পথে হেঁটে হেঁটে কখনও মাইকিং করছেন তারা, কখনও লিফলেট বিতরণ, আবার কখনো স্টেশনের দেওয়ালে সাঁটানো হচ্ছে পোস্টার। আবার মানুষের ভিড়ে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে পথসভা করছেন। এভাবেই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয় এই পদযাত্রা থেকে।