শ্মশানে বাবার শ্রাদ্ধের পূজা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দূর্ঘটনায় ৫ সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন আরও এক ভাই। সারাদেশের আলোচিত ঐ সড়ক দূর্ঘটনাটি হয় গেল ৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে। সেই সময় পিকআপের ধাক্কায় পরিবারের সঙ্গে গুরুতর আহত হয়েছিলেন রক্তিম সুশীল (৩১)। ৫ ভাইয়ের পর মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তিনিও মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।
টানা ১৫ দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
চমেক আইসিইউর চিকিৎসক অঞ্জন বল জানান, রক্তিম মাল্টিপল ট্রমায় ভুগছিলেন। মাথা, হাত, পা ও পাঁজরে আঘাত ছিল। লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আজ মারা গেছেন।
৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের মালুমঘাটায় পিকআপের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন রক্তিম সুশীল। দুর্ঘটনার তার আরও পাঁচ ভাই মারা যান। আহত হন রক্তিম, ভাই প্লাবন ও বোন হীরা।
সেদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্মশানে বাবার শ্রাদ্ধের পূজা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।
মালুমঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির সবজিবোঝাই একটি পিকআপ চাপা দিলে ৭ ভাইবোন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক অনুপম শীল (৪৭), নিরূপম শীল (৪৫), দীপক শীল (৪০), চম্পক শীলকে (৩৫) মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুরুতর আহত স্মরণ শীলকে (২২) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। সেদিন বিকেলে সেখানে আইসিইউতে মারা যান তিনিও। আহত রক্তিম শীল, প্লাবন শীল ও ইরা শীলকে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরপর কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রক্তিমকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আজ তার মৃত্যু হলো। মা, স্ত্রী ও এক ছেলেসহ স্বজনদের রেখে যান রক্তিম ।