রাজশাহীতে সয়াবিন তেল বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে এক মোদি দোকান সিলগালা করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের উপশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই পদক্ষেপ নেয় সরকারি এই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ ছাড়া নগরে দিনব্যাপী তেল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাসান-আল-মারুফ বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই সয়াবিন তেলের মূল্য অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অভিযোগ আসছিল। এই খবর পেয়ে আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের উপশহর নিউমার্কেট এলাকায় মেসার্স এস আলম ট্রেডার্সে তাঁরা যান। তাঁদের একজন কর্মকর্তাকে ক্রেতা সাজিয়ে তিনি দুই লিটার সয়াবিন তেল কেনান। দোকানী দাম রাখেন ৩৪০ টাকা। কিন্তু সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩১৬ টাকা। এ কারণে ওই দোকানকে সিলগালা করা হয়েছে। আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে দোকান মালিক এস আলমকে তাঁদের কার্যালয়ে এসে শুনানিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুনানি শেষে এই শাস্তি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন ভোক্তার অভিযোগে তাঁরা জানতে পারে যে, নগরের সাগরপাড়া এলাকায় রাজশাহী কিচেন বাজার ক্রেতার কাছে সয়াবিন তেল না বিক্রি করে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। পরে সেখানে তিনি তাঁর গাড়ি চালককে দিয়ে ওই দোকানে ক্রেতা সাজিয়ে পাঠান। ওই দোকানি এবারও বলেন তাঁর দোকানে তেল নেই। কিন্তু পরে বেলা ১টার দিকে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, তাঁর দোকানে পর্যাপ্ত সয়াবিন তেল রয়েছে। এ কারণে দোকানে মালিক অন্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে সকালে নগরের লক্ষ্মীপুর বাজারের তরিকুল মাংস ঘরকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে মাংস বিক্রি করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই বাজারে মোড়কজাত পণ্যে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য না থাকায় মারুফ ষ্টোরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া নগরের ঘোষপাড়া এলাকায় রাম স্টোরে তেলের মোড়কে ‘এমআরপি লেখা’ কেরোসিন তেল দিয়ে ঘষে তুলে দিয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করার অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক জনাব অপূর্ব অধিকারী।
হাসান-আল-মারুফ বলেন, তাঁরা ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। যেখানে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা হবে, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ জন্য ভোক্তাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।