মেহেরপুরে হতে যাচ্ছে দেশের ৫৩তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর আইন, ২০২২’এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে কিছু ভিন্নতা রাখা হবে। যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই।
এই আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন বোধে আচার্যের অনুমোদনক্রমে স্নাতকদের উদ্যোক্তা হিসেব গড়ে তুলতে বাস্তবতার নিরিখে কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দিতে অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজনেস ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। ছেলে-মেয়েদের প্রফেশনালি প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় বড় ভুমিকা রাখবে। এই পদ্ধতি চালু করতে এর আগে বুয়েটে, চুয়েটে ও ঢুয়েটে এটুআই থেকে চেষ্টা করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর আইন, ২০২২ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুরোটাই অন্যান্য আইনের মতো, ৩৬টি ধারা আছে। রাষ্ট্রপতি আচার্য হবেন। আর তিনি একজন ভিসি নিয়োগ দেবেন চার বছরের জন্য স্বনামধন্য একজন শিক্ষককে। তবে দুই টার্মের বেশি কেউ ভিসি থাকতে পারবেন না। একইভাবে উপ-উপাচার্য দেবেন দুই জন, ট্রেজারার দেবেন একজন এবং রেজিস্ট্রার থাকবে, সিন্ডিকেড থাকবে, সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে, একাডেমিক কাউন্সিল থাকবে। তারা সবকিছু দেখবেন।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই আইনে একটা বিশেষ জিনিস করা হয়েছে, যা অন্যটার মধ্যে নেই। এখন এটা সময়ের দাবি। এই আইনটার মধ্যে দুটি জিনিস আছে, একটি হলো বিজনেস ইনকিউবেটর, অপরটি হলো প্রফেসনাল কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন বোধে আচার্যের অনুমোদনক্রমে স্নাতকদের উদ্যোক্তা রূপে বিকাশ করার জন্য এবং তাদের বাস্তবতার নিরিখে কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দিতে অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজনেস ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। ধরেন যে সব ছেলে-মেয়েরা আসবে তাদের যেন প্রফেশনালি প্রতিষ্ঠিত করে দেওয়া যায়। এটা সবার খুব পছন্দ হয়েছে। ইত্যোমধ্যে বুয়েটে, চুয়েটে ও ঢুয়েটে আমাদের এটুআই থেকে চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসনাল কোর্স থাকবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা গ্র্যাজুয়েশন করে বাস্তব প্রফেশনের কোনো কোর্স করতে চায়, সে ধরনের কোর্স থাকবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল কোর্স চালু করা হবে। এ কোর্স করতে গ্র্যাজুয়েশন করা বাইরের যে কেউ আসতে পারবে। ডিপ্লোমাসহ যেসব কোর্সের বেশি চাহিদা থাকবে সেই কোর্স করতে পারবে।