কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী আবুল খায়েরের ছেলে ইয়াকুব হাসান। পরিবারের আর্থিক কষ্ট দুর করতে পাড়ি দেন লিবিয়া। দালালের মাধ্যমে সাগর পথে যাত্রা করেন ইয়াকুব। প্রথম গন্তব্য ছিল ইতালী। এতে প্রথম দফায় কয়েক লাখ টাকা প্রতারিত হয় হাসান। পরে আবারো চার লাখ টাকা দিয়ে ইতালী রওনা দেন। এবার আটক হন মাফিয়া চক্রের হাতে।
আটকের খবরে ঘুম হারাম হয়ে যায় মা শাহিনুর। প্রথমে ছেলে মারা গেছেন এমন খবর পান তিনি। তবে মায়ের মন বলছিল ছেলে বেঁচে আছে। তাই ছেলেকে উদ্ধার করতে জীবন ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়াতে থাকা স্বামীর কাছে যান শাহিনুর। জানতে পারেন ছেলে ত্রিপালিতে একটি গোপন কারাগারে বন্দি আছেন। গ্রামের সামান্য একজন সাধারণ নারী হলেও শাহিনুর হাল ছাড়েননি। তিনি বাংলাদেশ দুতাবাস ও আইওএমের সাথে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ কয়েকমাস চেষ্টার পর তার ছেলেকে উদ্ধার করেন তিনি। এ সময় সাথে আটক থাকা আরও কয়েকজনও মুক্তি পায়। ছেলেকে উদ্ধার করে গেল ২১ মার্চ গ্রামে ফিরে আসেন তিনি শাহিনুর।
শাহিনুরের এই সাহসিকতার খবর ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য গ্রামেও। গণমাধ্যমকর্মীরা ছুটে আসেন তার বাড়িতে। অনেকেই দেখতে আসেন শাহিনুরকে।
শাহিনুর জানান, তিনি চান দেশের আর কোন মায়ের সন্তান যেন দালালের খপ্পরে সাগর পথে বিদেশ পাড়ি না দেয়। এ নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীলতা ভুমিকা থাকা উচিৎ বলেও মনে করেন তিনি।