অধিক মুনাফা লাভের আশায় দ্রুত আম পাকাতে ক্যামিকেল স্প্রে’র সময় সাতক্ষীরায় হাতেনাতে ধরা খেয়েছেন এক আম চাষী। জেলা সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়িয়া এলাকায় সোমবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে ধরা পড়া ঐ আম চাষীর নাম ইদ্রিস আলী (৪৫)। তিনি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২৫ কেজি অপরিপক্ব উদ্ধার করা হয়।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই আম স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। সরকার ঘোষিত তারিখের আগে কোন আম খাওয়া নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করছেন তারা।
গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে শিমুলবাড়িয়া গ্রামের একটি আম-বাগান থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় জব্দ করা হয় ৫২৫ কেজি আম।
সাতক্ষীরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সকাল থেকেই গাছের অপরিপক্ব গোবিন্দভোগ আম ভাঙছিলেন আম ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী। আম ভাঙার পর গাছতলায় বসে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এই বিষ স্প্রে করলে আম দ্রুত পেকে যায়। পরে পরিপক্ব পাকা আম বলে বাজারজাত করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেন তারা। গোপনে খবর পেয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৫২৫ কেজি আম।
তিনি আরও জানান, এই আম আগামী ১০ মে বাজারে আসার কথা। কিন্তু বেশি মুনাফার আশায় ইথিওফিন নামক কীটনাশক প্রয়োগ করে আম পাকিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমনা আইরিন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আম ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে। অপরিপক্ব আমগুলো নষ্ট করার জন্য সাতক্ষীরা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানকালে সাতক্ষীরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা আইরিন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ও সদর থানার এএসআই গাজী সাজ্জাদ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি মন্ডল দেশটিভি অনলাইনকে জানান, অধিক দামে বিক্রির আশায় এভাবে আম পাকানো হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হবে। সাতক্ষীরার আমের যে সুনাম আছে তাও নষ্ট হবে। এই বিষাক্ত আম না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, জেলা প্রশাসক কর্তৃক ঘোষিত তারিখের আগে কোন আম খাওয়া নিরাপদ হবে না। দুই একদিনের মধ্যেই কবে কোন আম পাড়া যাবে তার ঘোষণা আসবে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে।