২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান কর্মসূচীর ঘোঘণা দিয়েছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। তাকে নিয়ে না করলে আত্মহত্যারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি বরগুনার।
গত রোববার (১ মে) দুপুরে ঐ ছাত্রী এ সব দাবি জানান। তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত এই আল্টিমেটাম অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঐ ছাত্রী।
এই ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে এলাকায়। আলোচিত ওই ছাত্রীর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি এলাকায়। তিনি রাজধানীর উত্তরায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই মুহূর্তে তিনি বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালীর কাঠপট্টি এলাকায় তার প্রেমিক মাহমুদুল হাসানের বাড়িতে অবস্থান করছেন। মাহমুদুল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) সিভিল প্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়নরত।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ওই তরুণী বলেন, আমি আমার বাবা মাকে ছেড়ে চলে এসেছি। আমি ওর (মাহমুদুল) বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি, কিন্তু তারা কেউ আসছে না। আমি চারদিন ধরে একা একা ওর বাড়ির সামনে থাকছি। আমার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। আমার এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে।
ওই তরুনী বলেন, দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গেছে, ও আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত তিন বছর ধরে আমাদের রিলেশন। আমি সর্বস্ব খুইয়ে এখন নিরুপায় হয়ে এখানে এসেছি। আর একদিন পর ঈদ। আমার তো আর বাড়িতে ফিরে যাওয়ারও সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, গতকাল থেকে কয়েকটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসছে। তারা আমাকে এখান থেকে চলে যেতে বলছে। না গেলে আমার সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন আমার জীবনের নিরাপত্তা কে দিবে? আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাহমুদুল যদি এখানে এসে মাকে বিয়ে না করে, তাহলে আমি সুইসাইড করব। আর এর জন্য দায়ী থাকবে মাহমুদুল ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে বেতাগী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আবদুস সালাম বলেন, আমি সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তার নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি আমরা। মেয়েটির বাবা ও চাচা বরগুনা আসছেন।
জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার এই তরুণী ও বরগুনার মাহমুদুল হাসান দুজনেই রাজধানীর উত্তরায় থেকে লেখাপড়া করতেন। একই এলাকায় থাকার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। সম্পর্কের তিন বছর পর মাহমুদুলকে বিয়ের জন্য বললে নানা অজুহাতে তরুণীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন মাহমুদুল। এপ্রিল মাসের শুরুতে মাহমুদুল গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী চলে আসেন। বাড়িতে আসার পর ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং মোবাইল ফোনটিও বন্ধ করে রাখেন।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বরগুনায় এসে চান্দখালী বাজার-সংলগ্ন মাহমুদুলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। তিনি আসার পর তাকে দেখে মাহমুদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাসায় তালা লাগিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।