জেলার খবর

সাতক্ষীরার আম বিক্রি শুরু, ফলন কম-দাম বেশি

সাতক্ষীরার আম। ছবি: শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
সাতক্ষীরার আম। ছবি: শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

জলবায়ু ও ভৌগিলিক কারণে দেশে সবার আগে আম পাকে সাতক্ষীরাতে। তাই সরকার নির্ধারিত তারিখ হিসেব আজ (৫ মে) থেকে সাতক্ষীরার আম বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে সব ধরনের আম বাজারে আসতে এখনো সময় লাগবে। এ বছর ফলন কম হয়েছে সাতক্ষীরাতে। তাই লোকসানের আশঙ্কায় আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার ৫০ ভাগ গাছে আমের মুকুল আসেনি। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটি হতে পারে। কেননা আমগাছে যখন মুকুল আসবে, ঠিক তার আগ মুহূর্তে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় মুকুল আসতে পারেনি। অসময়ে বৃষ্টির কারণে আমচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ বছর।

আম চাষীরা জানিয়েছেন, গাছে ফলন কম হওয়ায় এ বছর আমচাষীরা লোকসানে পড়বেন। সাতক্ষীরা সদরের কুকরালী এলাকার আম ব্যবসায়ী মোকছেদ আলী মোড়ল। ১৪ লাখ টাকায় ১৫টি আম বাগান কেনা রয়েছে এই ব্যবসায়ীর। লোকসানের আশঙ্কায় চিন্তার ভাজ তার চোখেমুখে।

আম ব্যবসায়ী মোকছেদ আলী মোড়ল জানান, এ বছর আম গাছে ফলন খুব কম। সাতক্ষীরার সবচেয়ে বিখ্যাত আম হিমসাগর। এই আম এ বছর গাছে এসেছে শতকরা ৩০ ভাগ। গোবিন্দভোগ গাছে এসেছে ৭০ ভাগ আম। এভাবে সকল আম গাছেই ফলন খু্ব কম হয়েছে। আমার ১৪ লাখ টাকার আম গাছ কেনা রয়েছে। ধারণা মতে এ বছর ৮ লাখ টাকা লোকসান যাবে। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার থেকে গোবিন্দভোগ আম ভাঙা শুরু করেছি। প্রথমদিনে ৮ মন আম সাতক্ষীরার বড় বাজারে আমের আড়তে বিক্রি করেছি। প্রতিমন কাঁচা আম বিক্রি হয়েছে ২৬০০ টাকা, প্রতি কেজি পড়েছে ৬৫ টাকায়। প্রথমদিনে বাজারে আম কম ছিল। তবে সামনের দিনে আরও বাড়বে। ধারণা করছি, দামও বাড়বে।

এদিকে, গত ২৭ মার্চ সরকারি কর্মকর্তা ও আম ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় জেলায় আম ভাঙার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন। সেখানে ৫ মে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বায়, ক্ষীরশাপাতি, গোলাপখাস ও বৈশাখীসহ অন্যান্য স্থানীয় জাতের আম, ১৬ মে হিমসাগর, ২৪ মে ল্যাংড়া ও পহেলা জুন আম্রপালি আম ভেঙে বাজারে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, গত বছর ৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আবাদ বাড়লেও এ বছর ৫০ ভাগ গাছেই আসেনি আমের মুকুল। জেলায় ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষি রয়েছে।

সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর জেলায় আমের ফলন খুব কম হয়েছে। ৫০ ভাগ গাছে মুকুল আসেনি। আমগাছে যখন মুকুল আসবে, ঠিক তার আগ মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় মুকুল আসেনি। গাছে কচি সবুজ পাতা চলে আসে। বৃষ্টির কারণে আমচাষিরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ বছর।

তিনি বলেন, নিরাপদ আম বাজারকারণ বিষয়ক সভার মাধ্যমে গাছ থেকে পরিপক্ক আম ভাঙার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো ব্যবসায়ী বা চাষি অপরিপক্ক আম গাছ থেকে পেড়ে কার্বাইড দিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অপার জীবনানন্দ’

শৌচাগারের দরজায় বঙ্গবন্ধুর ছবি পোস্ট, কারাগারে তরুণ

৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যায় চারজনের ফাঁসি

তেঘরিয়া কবরস্থানে সমাহিত হলেন শিক্ষাবিদ আব্দুল আলী

উখিয়া শরণার্থী শিবিরে দুই রোহিঙ্গা নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মেয়রসহ গুলিবিদ্ধ তিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ