সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার ৫০ ভাগ গাছে আমের মুকুল আসেনি। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটি হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা জানান, আমগাছে যখন মুকুল আসবে, ঠিক তখনই হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় মুকুল আসতে পারেনি গাছে। অসময়ে বৃষ্টির কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষিরা।
জলবায়ু ও ভৌগিলিক কারণে দেশে সাতক্ষীরাতে সবার আগে আম পাকে। এ বছর ৫ মে তারিখ থেকে সরকার সাতক্ষীরার আম পাড়ার দিন নির্ধারণ করেছে। তবে হিমসাগর বা ল্যাংড়াসহ অন্য জাতের আরো আম বাজারে আসতে এখনো সময় লাগবে। এ বছর ফলন কম হয়েছে। তাই লোকসানের আশঙ্কায় আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর জেলায় আমের ফলন খুব কম হয়েছে। ৫০ ভাগ গাছে মুকুল আসেনি। আমগাছে যখন মুকুল আসবে, ঠিক তার আগ মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় মুকুল আসেনি। গাছে কচি সবুজ পাতা চলে আসে। বৃষ্টির কারণে আমচাষিরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ বছর।
তিনি বলেন, নিরাপদ আম বাজারকারণ বিষয়ক সভার মাধ্যমে গাছ থেকে পরিপক্ক আম ভাঙার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো ব্যবসায়ী বা চাষি অপরিপক্ক আম গাছ থেকে পেড়ে কার্বাইড দিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরায় প্রথম পর্যায়ে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, বৈশাখীসহ কয়েকটি জাতের আম পাড়ার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। বাগান থেকে আম সংগ্রহের পর আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা সুলতানপুর বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে নিয়ে আসছেন। তবে আমের দাম নিয়ে খুশি নন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গতকাল শুক্রবার সুলতানপুর বড়বাজারে ভ্যানে করে আম এসেছে। অন্য জেলা থেকেও ক্রেতারা এসেছেন আম কিনতে। সেখানে সদর উপজেলার মথুরেশপুর গ্রামের আমচাষি আতাউর রহমান বলেন, ‘এ বছর কয়েকবার শিলাবৃষ্টিতে আমের ক্ষতি হয়েছে। তাই উৎপাদন কম। তারপর দামও কম। গোবিন্দভোগ আম বিক্রি করে দাম পেয়েছি মণপ্রতি ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ গত বছর পেয়েছিলাম ৩ হাজার টাকা।’
সুলতানপুর বড়বাজারের আড়তদার আমিনুল হক বলেন, বাইরের জেলা থেকে ক্রেতা এখনো সেভাবে আসা শুরু করেনি। তাই আমের দাম কম। তবে কিছুদিনের মধ্যে ব্যাপারি আসা শুরু হলে দাম আবার জায়গায় চলে আসবে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৫ হাজারেরও বেশি বাগানে আম চাষ হয়েছে। চাষি রয়েছেন ১৩ হাজার ১০০ জন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। ৫০০ হেক্টর জমিতে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম চাষ করা হয়েছে। গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাইসহ কয়েকটি জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে। ১৬ মে থেকে ভাঙা হবে হিমসাগর আম। ২৪ মে ল্যাংড়া ও ১ জুন ভাঙা হবে আম্রপালি।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘অপরিপক্ব আম যাতে কেউ না ভাঙে, সে জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে আমরা আম ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছি। নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কেউ আম ভাঙে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’