গাজীপুরে পৃথক স্থান থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই জনের লাশ ঝুলন্ত উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুন) মহানগরীর সদর থানার হাড়িনাল নোয়াগাঁও এবং বাসন থানার যোগীতলা এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- গাজীপুর মহানগর বাসন থানার যোগীতলা এলাকার অহিদ আলীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী সেতু আক্তার (২৭) ও সদর থানার হাড়িনাল নোয়াগাঁও এলাকার শহীদুল ইসলামের মেয়ে সাথী আক্তার (১৭)। সাথী স্থানীয় এ আর মডেল স্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার এসআই ইমতিয়াজ জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় স্থানীয় শিক্ষক ইকবাল হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায় সাথী। দুই ঘণ্টা পর প্রাইভেট থেকে ফিরে নিজ কক্ষে ঢুকে দরজা আটকে দেয় সে। প্রায় ঘণ্টাখানেক তার বাবা সাথীকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বাসন থানার এসআই শফিউল আলম জানান, সোমবার সকাল ৬টার দিকে স্ত্রী সেতু আক্তার ও দুই সন্তানকে বাসায় রেখে কর্মস্থলে যান স্বামী অহিদ আলী। তিনি স্থানীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে শ্রমিকের কাজ করেন।
পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো। সকাল ৯টা পর্যন্ত সেতুকে দেখতে না পেয়ে বাড়ির লোকজন ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ দেখেন প্রতিবেশীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। উভয় ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে আত্মহত্যার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।