কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউপির আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন মনুপাড়া এলাকায় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাইকে বেধড়ক মারধর করেছে তিন বখাটে। বোনের ইজ্জত রক্ষায় ভাইয়ের প্রাণপণ চেষ্টা এবং বেধড়ক মার খাওয়ার ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনাটি গত ৩১ মে বিকেলে ঘটলেও ভিডিওটি শনিবার (১১ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
সেদিন ছোট বোনকে উত্ত্যক্ত করায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটেদের মারধরের শিকার হন আবদুল মোনাফ নামের ওই তরুণ।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বখাটেরা ফিল্মি স্টাইলে নাফিসা আক্তার (১৪ ) নামের এক তরুণীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বোনকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন ওই তরুণীর ভাই আব্দুল মোনাফ। বখাটেদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বোনকে রক্ষা করতে পারলেও বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন মোনাফ। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউপির আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন মনুপাড়া এলাকায়।
মারধরের শিকার আবদুল মোনাফ বলেন, খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে আমরা একটা ফ্ল্যাট পেয়েছি। আমাদের বাবা মারা গেছেন। ৩১ মে আমার বোন মামার বাড়ি যাচ্ছিল। পথে খুরুশকুল মনুপাড়ার জামাল-রায়হানরা আমার বোনকে উত্ত্যক্ত করে। এ সময় সে বাসায় ফিরে আসতে চাইলে বখাটেরা পথ আটকায়। প্রকল্প থেকে দৃশ্যটি দেখতে পেয়ে সেখানে যাই। বোনকে উত্ত্যক্তের কারণ জানতে চাই। এ সময় তারা আমার বোনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তখন বোনকে বাঁচাতে জড়িয়ে ধরি। এ অবস্থায় আমাকেও মারধর করে তারা।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার পরপর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। সেখান থেকে থানায় গিয়ে অভিযোগ করি। কিন্তু পুলিশ তদন্তে কালক্ষেপণ করায় শনিবারও হামলাকারীরা আমাকে হুমকি দেয়। এখন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সবাই দৌড়াচ্ছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে আজ রোববার ভোরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য রায়হান ও আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সবকিছু খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস অভিযোগ করেন, মোনাফ ৩১ মে থানায় অভিযোগ দিলেও বোনকে উত্ত্যক্ত ও মারধরের কথা এড়িয়ে যান। তিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দেননি মোনাফ।