যাত্রী তোলা নিয়ে ফরিদপুরে বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে জেলায় বাস চলাচল বন্ধের ৮ ঘণ্টা পর ফের চালু হয়েছে।
সোমবার(১৩ জুন) দুপুর ৩টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। এর আগে সকাল ৭টায় জেলা থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।
পরে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দুপুরে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।
বৈঠকের বিষয়ে ডিসি অতুল সরকার বলেন, ‘যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব মেটাতে পুলিশ প্রশাসনসহ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সভায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে দুপুর ৩টা থেকে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়।’
জানা গেছে, গত ৬ জুন সকালে বোয়ালমারী থেকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস (ফরিদপুর-ব-০০৫৭) মাঝকান্দি যাচ্ছিল। বাসটি কাদেরদী কলেজের সামনে আসার পর যাত্রী ওঠানো নিয়ে এক মাহিন্দ্রচালককে গালাগালি করেন চালক ও সুপারভাইজার। কিছু দূরে আরেকটি মাহিন্দ্রকে যাত্রী ওঠাতে দেখলে মাহিন্দ্রচালককে মারধর করেন ওই বাসের সুপারভাইজার। তখন ওই মাহিন্দ্রচালক দ্রুত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মোড় মাঝকান্দিতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো করেন। বাসটি মাঝকান্দি এলে ওই বাসের চালক রাসেল শেখ (৩৫) ও সুপারভাইজার সোলাইমান সরদারকে (৩২) মারধর করেন তারা। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সুপারভাইজার আহত হন। চালক রাসেলকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ খবর ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে পরিবহন শ্রমিকরা সড়কের ওপর এলোপাতাড়ি বাস রেখে সকাল ১০টা থেকে সব পথে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় ঢাকাগামী একটি বাসের কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। শ্রমিকেরা ওই কাউন্টারে চড়াও হন এবং জোর করে কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এ সময় সড়কে চলাচল করা ২৫-৩০টি মাহিন্দ্র শ্রমিকেরা আটক করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে ঢাকা, খুলনা, মাগুরা, বরিশালগামী যাত্রীসহ ফরিদপুরের অভ্যন্তরীণ সব রুটের যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েন।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং মধুখালীর মাঝকান্দি এলাকা থেকে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ওই মাহিন্দ্রচালককে আটক করে।
ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জুবায়ের জাকির জানান, গত ৬ জুন বাস-মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব হয়। সেদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে বিকেলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সভার সিদ্ধান্তে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সিদ্ধান্ত হয় ১১ জুন বৈঠক করে মাহিন্দ্রা কোনো কোনো রুটে চলবে ও কোথা থেকে যাত্রী তুলবে তা নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু ১১ জুন সে মিটিং না হওয়ায় আজ আবার বাস মালিক সমিতি ও মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
জুবায়ের জাকির আরও জানান, গত ৬ জুন সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সতৈর এলাকায় মাহিন্দ্রাচালক মো. মজিদ তার পরিবহনে দুজন যাত্রী তোলেন। এ নিয়ে একই সড়কে চলাচল করা একটি বাসের হেলপার মো. রাসেলের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
এর আধাঘণ্টা পর মাঝকান্দি এলাকায় মাহিন্দ্রাচালক মজিদ আরও লোকজন নিয়ে রাসেলকে লাঞ্ছিত করেন। রাসেল নতুন বাসস্ট্যান্ডে এসে অন্য শ্রমিকদের বিষয়টি জানালে সেদিন ১১টার দিকে সড়কে বাস রেখে বিক্ষোভ করেন তারা। এ ছাড়া এ সড়কে চলাচল করা ২৫ থেকে ৩০টি মাহিন্দ্রা আটকে রাখলে উত্তেজনা বিরাজ করে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে মধুখালীর মাঝকান্দি এলাকা থেকে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ অভিযুক্ত মাহিন্দ্রাচালককে আটক করে।
এ ঘটনার পর বাসস্ট্যান্ডের বাসমালিক গ্রুপের কার্যালয়ে মালিক, শ্রমিক ও ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতে জরুরি বৈঠক বসে। সেখানে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর ৩টার থেকে আবার সব ধরনের বাস চলাচল শুরু হয়।