রেলওয়ের ‘দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার’ প্রতিবাদে এবার চট্টগ্রাম স্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। এর আগে ঢাকার কমলাপুরে মহিউদ্দিন রনি নামের এক শিক্ষার্থী একই ধরনের প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসেন।
রোববার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, প্ল্যাকার্ড হাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ মাহিন, রুবেলসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনে বিভিন্ন অনিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ছয় শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে ‘আমরা দিব ফুল ভালোবাসা, আপনারা দিন একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।’

শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
রেলের অব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের ৬ দফা দাবিও তুলে ধরেন তারা।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সহজ ডটকম কর্তৃক যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা ও হয়রানির ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, যথোপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ, অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুকিং বন্ধ করা ও অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া, ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক-তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি ও শক্তিশালী তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেলসেবার মান বাড়ানো এবং ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি, বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
চবি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহিন রুবেল বলেন, রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। সকালে রেলের কর্মকর্তারা আমাদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে বলেছেন। আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, রেলের স্টাফদের বিষয়ে কোনো ধরণে অভিযোগ ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। রেলমন্ত্রীরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতে কোনো ধরণের তথ্যবহুল অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।