ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে সড়কে ভূমিষ্ঠ হওয়া সেই নবজাতকের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে বলে জানা গেছে। তবে শিশুটিকে এখনই শঙ্কামুক্ত বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
নবজাতকের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সচিব ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বুধবার (২০ জুলাই) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমেছে। তবে জন্ডিসের কোনো উন্নতি হয়নি। এছাড়াও অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষায় বড় ধরণের কোনো জটিলতা বা ইনফেকশন (সংক্রমণ) পাওয়া যায়নি।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তারপরও শিশুটির হাড় ভাঙা রয়েছে। তাই শিশুটিকে এখনই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। শঙ্কামুক্ত বলতে সময় লাগবে।
এর আগে গত ১৬ জুলাই দুপুরে উপজেলার রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মেয়ে সানজিদাকে (৬) সঙ্গে নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগমকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে ত্রিশালে যান। পৌর শহরের খান ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর আলম, রত্না বেগম নিহত হন। এসময় ঘটনাস্থলে রত্না বেগমের পেট ফেটে শিশুটির জন্ম হয়। এতে শিশুটির ডান হাতের দুই স্থান ভেঙে যায়। লাবীব হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন জন্ডিস, রক্তস্বল্পতা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় শিশুটিকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়।
গত সোমবার (১৮ জুলাই) রাতে শিশুটিকে ময়মনসিংহ নগরীর বেসরকারি লাবীব প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনাইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শিশুটির চিকিৎসা করছে।