উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার পর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। কয়েক সপ্তাহ পানি কম থাকলেও সোমবার (১ আগস্ট) দুপুর থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে। ফলে,পানির চাপ বেশি থাকায় ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার ( ১ আগস্ট) সকাল থেকেই বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই থাকলেও বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভয়াবহ বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার ( ৩১ জুলাই) বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচে পানি প্রবাহিত হলেও সোমবার (১ আগস্ট) সকাল ৬ টা,৯টা ও বেলা ১২টায় বিপৎসীমার ২ সে. মি. নিচে ও বিকেল ৩টায় ১০ সে. মি. ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ভাটি এলাকায় ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় নিজেদের সবটুকু গুছিয়ে নিচ্ছেন নদী পারের মানুষ।
তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালমাটি, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এ ছাড়াও ভাটি এলাকায় রাত নাগাদ পানির প্রবাহ চলে আসবে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে তাদের।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে। তাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।