ঢাকার ধামরাইয়ে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকবাহী বাসের চালকের উপস্থিত বুদ্ধি এবং রাস্তের পাশের বিদ্যুতের খুঁটির কারণে প্রায় অর্ধশত কর্মীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের ডাউটিয়া মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ সামনে চলে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে চালক রাস্তার পাশে বাসটি নামিয়ে দেন। খাদে পড়তে থাকা বাস বিদ্যুতের খুঁটিতে গিয়ে না আটকালে ৩০ থেকে ৪০ ফুট নিচের পানিতে ডুবে যাওয়ার শঙ্কা ছিল!
যাত্রীদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের এবং আরো কয়েক জনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুতের দুটি তার ছিঁড়ে বাসের ওপর পড়লেও বিদ্যুতায়িত থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধামরাইয়ের বালিথা রাইজিং পোশাক কারখানার এসবি লিংক পরিবহনের শ্রমিকবাহী একটি বাস সাভারের নবীনগর, নয়ারহাট, ইসলামপুর, ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড ও ঢুলিভিটা এলাকা থেকে শ্রমিক নিয়ে কারখানায় রওনা হয়।
বাসটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের ডাউটিয়া মাদ্রাসার সামনে পৌঁছলে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেতে শ্রমিকবাহী বাসটি সড়কের পাশে উল্টে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাসের অন্তত ৪০ জন যাত্রী আহত হন।
আহত শ্রমিক কহিনুর ইসলাম জানান, ৪৫ থেকে ৫০ জন শ্রমিক নিয়ে বাসটি রাইজিং কারখানায় যাচ্ছিল। ডাউটিয়ায় ঢাকাগামী একটি ট্রাক আমাদের বাসের মুখোমুখি হয়। এ সময় সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চালক বাসটি বাম পাশে নামিয়ে দেয়। এতে বাসটি উল্টে বিদ্যুতের খুঁটিতে গিয়ে ধাক্কা লাগে।
‘এ সময় বিদ্যুতের তার উত্তর পাশ থেকে ছিঁড়ে বাসের ওপর পড়ায় আল্লাহ আমাদের প্রাণে রক্ষা করেছে। এছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি না থাকলে বাসটি পাশের প্রায় ৩০-৪০ ফুট নিচের খাদের পানিতে ডুবে যেত। আল্লাহ আমাদের দুই দিক থেকেই রক্ষা করেছেন।’
ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়েই আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। যাত্রীরা আহত হলেও পানিতে ডুবে ও বিদ্যুৎস্পর্শ থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।