নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার সময় এক আসামি পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে দায়িত্বরত পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা কারাগারের উপ-সহকারী জেলার রিজিয়া পারভীন।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখী বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। হাতকড়া পরা অবস্থায় ওই আসামি পালিয়ে গেলেও তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পালিয়ে যাওয়া ওই আসামির নাম শাহ আলম (২৪)। তিনি একটি চুরির মামলায় নরসিংদী জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হচ্ছিল।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি মামলার আসামি শাহ আলম (২৪) ও হত্যা মামলার আসামি উজ্জ্বল মিয়া (৩০) গত কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণ করছিলেন। সোমবার তাদের দুজনকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পর্যবেক্ষণ করে রাজধানী ঢাকার একটি মানসিক হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
নরসিংদী জেলা কারাগারের উপ-সহকারী জেলার রিজিয়া পারভীন জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বুধবার বিকেলে কারাগার থেকে তাদের দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে দেয়ার জন্য পুলিশের ৪ সদস্যের একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের ওই দলটিতে ছিলেন জেলা পুলিশ লাইনসের নায়েক মামুন মিয়া, কনস্টেবল সোহেল মিয়া, আবুল কালাম ও ওমর ফারুক। পুলিশের দলটি এ দুই আসামিকে নিয়ে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের যাতায়াত পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা হন। পরে বাসটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখী বাসস্ট্যান্ডে থামলে আসামি শাহ আলম বাসের দরজা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান। পরে শাহ আলমকে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে উজ্জ্বল মিয়াকে নিয়েই কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায় পুলিশের ওই দলটি। পালিয়ে যাওয়া আসামি শাহ আলমকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।