লালমনিরহাট গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উদ্ধার করা ফেনসিডিলের বস্তা ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে খেয়েছেন মাদকসেবীরা।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে কাকিনা-মহিপুর-রংপুর সড়কের এসকেএসের বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে লালমনিরহাট সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল নিয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ফেনসিডিলের বড় চালান নিয়ে যাচ্ছিলেন।
খবর পেয়ে লালমনিরহাট গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা গাড়িটিকে ধাওয়া করেন।
মাদক ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কাকিনা-মহিপুর, রংপুর সড়কের এসকেএস বাজারের লোকজন প্রাইভেটকারটি আটকের চেষ্টা করলে ৩ পথচারীকে চাপা দেয়। ওই সময় শিশুসহ তিনজন আহত হন।
উত্তেজিত জনতা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এই সুযোগে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের একটি দল মোটরসাইকেলে করে এসে প্রাইভেটকারটি ও ডিবি পুলিশকে ঘিরে রাখেন। এ সময় তারা গাড়ির চালককে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি টের পেয়ে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের সদস্যরা রংপুরের গঙ্গাচড়া থানা ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানায় খবর দেন।
পরে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা ও গঙ্গাচাড়া থানা-পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে। কিন্তু তারা আসার আগেই প্রাইভেটকার থেকে ফেনসিডিলের একটি বস্তা ছিনিয়ে নেন মাদক সেবনকারীরা। পরে পুলিশের সামনে মাদক সেবনকারীরা ফেনসিডিল নিয়ে প্রকাশ্যে সেবন করতে থাকেন।
এ সময় মাদক সেবনকারীরা স্থানীয় জনতার হাতে মারধরের কবলে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল রংপুর থেকে লালমনিরহাট সীমান্তের দিকে যান মাদক সেবন করতে। পুলিশের চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ সেবনকারীরা পার পেয়ে যান বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি এটিএম গোলাম রসুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডিবি পুলিশের হাতে আটকের পর স্থানীয়রা ঝামেলা করছিল। পরে খবর পেয়ে প্রাইভেটকারসহ ২৮৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে এবং থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে ওই সময় মাদকের বস্তা ছিনিয়ে নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে আপনাদের জানাতে পারব।