সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি-এসিল্যান্ড) লিয়াকত সালমানের ওপর হামলা ও ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদীপাড়া গ্রামের ১৭৪ জনকে।
রোববার (২১ আগস্ট) রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পেশকার আব্দুল হাই বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলাম ও শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ।
শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ গণমাধ্যমকে বলেন, রাতেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পেশকার আব্দুল হাই বাদী হয়ে ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এ মামলায় অযথা কেউ হয়রানির শিকার হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ও ছবি দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের আটক করা হবে। এছাড়াও তারা রাস্তার ওপরে গাছের গুঁড়ি পুঁতে ও বাঁশ দিয়ে যে ব্যারিকেড তৈরি করেছিল তা অপসারণ করা হয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি সরকারের রেকর্ড করা পতিত জমি জানিয়ে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এর পাশেই একটি প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ আছে। কিন্তু যে জায়গাটিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ সরকারি ও ১৯৮০ সালের সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী পতিত জমি।
সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাসুদ রানা ণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে একটি করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছাড়া ক্রীড়া সংস্থার অন্য তেমন কোনো মাঠ নেই। তবে সেটি সরকারি সম্পত্তি নাকি এলাকাবাসী বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সেটা বলতে পারছি না। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের জন্য অন্য কোনো সরকারি জায়গা থাকলে, খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ না করাই ভালো।
প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি খেলার মাঠে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে রোববার (২১ আগস্ট) প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমানসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ভাঙচুর করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি