রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল বের করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে ওসিসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) হোসাইন রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে গুম-খুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি, ভোলা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিহতের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান মাবুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের পুরাতন সোনালী ব্যাংকের মোড় হয়ে বাজার অতিক্রম করে টাকোয়া মসজিদের সামনে সড়কে সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে পুলিশ এতে বাধা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় বিএনপি কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে। এরপর বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে ১৫ পুলিশ ও ৪ সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।
এদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকে আটক করেছে। তারা হলেন, বিএনপি নেতা মাহবুব আসিফ, ছাত্রদল নেতা সিন্দিদ, অয়ন ও নয়ন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান মিলন জানান, পুলিশ ৪ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করার নামে পুলিশের ওপরে হামলা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ১৫ পুলিশকে আহত করেছে। তারা দফায় দফায় পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।’
রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) হোসাইন রায়হান বলেন, ‘বর্তমানে গঙ্গাচড়ার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গঙ্গাচড়া থানার ওসিসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কারও মাথা ফেটে গেছে, কারও হাত-পা কেটে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’