পদ্মা সেতু নির্মাণে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বৃহস্পতিবার সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আগামী এক মাসের মধ্যে কোম্পানীকে কার্যাদেশ দেয়া হবে—এ কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অক্টোবর থেকেই পদ্মা সেতু নির্মান কাজ শুরু হবে।
বিগত মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম ছিলো পদ্মা সেতু নির্মাণ। ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হলেও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ঝুলে যায় দেশের অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি।
অনেক টানাপোড়েনের পর গত বছর জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এরপর গত বছরের জুন মাসে পদ্মা সেতুর মূল স্থাপনা নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে সরকার। এতে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয় ডেইলিম ও স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন দরপত্রের প্রথম দুই পর্বে অংশ নেয়।
তবে আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয় শুধুমাত্র মেজর ব্রিজ কোম্পানি। একমাত্র দরপত্রদাতা চায়না মেজর ব্রিজকেই শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেয় সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি।
চায়না মেজর ব্রিজ ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ টাকায় মূল সেতুর নির্মাণ কাজ করবে।
এ টাকার ৭৪% বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে যা বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে মেটানো হবে। বাকী অর্থ বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করা যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীসভার আগামী বৈঠকে অনুমোদনের পরে এক মাসের মধ্যে কার্যাদেশ দেয়া হবে। সে হিসেবে অক্টোবর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে এ প্রকল্পে ফের যাতে দুর্নীতি না হয় সে বিষয়ে সরকার সজাগ থাকবে।
এদিকে, ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।