একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া জামাতের সাবেক আমির গোলাম আযমের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার তার নামাজে জানাজা হবে তবে দাফন নিয়ে এখনো কোনো কথা বলেননি তার ছেলে। জানা গেছে, তার বড় ছেলে জানাজা পড়াবেন।
ওইদিন রাতই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে গোলাম আযমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গোলাম আজমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আজমী বলেন, বিদেশ থাকা স্বজনরা আসার পর গোলাম আযমের দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর আগে বুধবার বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গোলাম আযমকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রাত ১০টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এরপর রাতেই হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেট তারিক হাসানের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। রাত সাড়ে ৩টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়।
তবে গোলাম আযমের ছেলের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে রাতে আর ময়নাতদন্ত করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।
এরপর সকালে ময়নাতদন্ত শেষে গোলাম আযমের মরদেহ বুঝিয়ে দেয়া হয় তার পরিবারের কাছে। সেখান থেকে মগবাজারের কাজী অফিস লেনে নিজ বাসায় নিয়ে আসা হয় গোলাম আযমের মরদেহ।
উল্লেখ্য, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্বদানকারী গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধে গত বছরের ১৫ জুলাই ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে রাখা হয়।