লন্ডনে বসে তারেক রহমান ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাস বিকৃত করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে– ইতিহাস বিকৃতকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে এ মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ইতিহাস বিকৃতির দায়ে যুদ্ধাপরাধীদের মতো একদিন বিএনপি নেতাদেরও বিচার হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমানের বক্তব্যে একাত্তরের ইয়াহিয়া খানের প্রতিধ্বনি, পুত্রকে সংযত হয়ে কথা বলতে বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, না হলে দেশের মানুষ জানে কিভাবে এর শিক্ষা দিতে হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের কারণে তারেকেও বিচার করা হবে।
এ সময় তারেক রহমানের জিভ সামলাতে তার মা খালেদা জিয়াকে সাবধান করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন তা না হলে সমুচিৎ জবাব দেয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ বলা ছাড়াও আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিতর্কিত বিভিন্ন বক্তব্যের জন্য তারেক রহমানকে ‘অশিক্ষিত জানোয়ার’ বলেও আখ্যায়িতও করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর দক্ষ নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। অভিযোগ করেন, জাতির জনককে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন বক্তব্য দেশের মানুষ বরদাস্ত করবে না।
বিএনপি শাসনামলে দুর্নীতিই নীতি ছিল— এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী এতিমদের টাকা মেরে এখন মামলা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপি নেত্রী।
মামলার ভয়ে আদালত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন খালেদা জিয়া বলে জানান তিনি।
দলের সভাপতি মণ্ডিলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের নেতারা তারেক রহমানের বক্তব্যকে নব্য পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন। এর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলারও বিচার করা হবে।
গত ১৫ ডিসেম্বর লন্ডনে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ বলেন তারেক। এছাড়াও তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু ইয়ারহিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন বলে বক্তব্য দেন।
বক্তব্য তারেক বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আসার ঠিক আগে ইয়াহিয়া খানকে প্রেসিডেন্ট মেনে তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমঝোতা করেছিলেন।
সোমবার লন্ডনে বিএনপির এক আলোচনায় এ দাবি করেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছেলে। যিনি এর আগে এই ধরনের কয়েকটি অনুষ্ঠানে ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য হাজির করেছিলেন।
২১ আগস্টসহ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে ছয় বছর ধরে লন্ডনে থাকা তারেক প্রবাসে বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। লন্ডন থেকে মালয়েশিয়া গিয়ে একটি সভায়ও যোগ দেন তিনি।
এর মধ্যে এই বছরে আগস্টে এক সভায় বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে ‘বাংলাদেশের অভিশাপ’ এবং আওয়ামী লীগকে ‘কুলাঙ্গারের দল’ বলেন তারেক।
কয়েক মাস আগে আরেক সভায় নিজের বাবা জিয়াউর রহমানকে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলে দাবি করেন তারেক। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলেন তিনি।
এসব বক্তব্যের জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তীব্র বাক্যবাণ তারেককে লক্ষ্য করে। সেইসঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে।
টানা কয়েকটি সভায় বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে তারেকের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এরইমধ্যে জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।