জাতীয়

সংশ্লিষ্ট খবর:

  • টুইটে বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা মোদির

  • বাস সার্ভিস উদ্বোধন করলেন হাসিনা- মোদি

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা সফল হাসিনার নেতৃত্বে: মোদি

স্থল সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়

মোদি
মোদি

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সফল হবে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের পার্লামেন্টে স্থল সীমানা চুক্তি বিল সর্ব সম্মতিক্রমে পাস হওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ব্যাপারে ঐকমত্যেরই প্রতিফলন।

কানেকটিভিটি বাড়লে দুদেশই সমৃদ্ধি হবে অর্থনৈতিক গতিরও সঞ্চার করবে— সীমান্ত সমস্যার নিষ্পত্তির মাধ্যমে সীমান্ত আরো নিরাপদ হবে বলে মনে করেন তিনি।

তার এই সফরকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’-- আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘদিনেও যে সমস্যাগুলো ছিল সেই স্থল সীমান্ত চুক্তি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে আরও যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই তা হলো তার মাধ্যমে দু'দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি আরো বাড়বে।’

বাংলাদেশ সফরকে জীবনের বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে এ সফরের মাধ্যমে সম্মানিত বোধ করছেন বলেও উল্লেখ করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তার ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ এরও প্রশংসা করেন মোদি। এ সময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন সার্থক হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। পাশাপাশি ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন নরেন্দ্র মোদি।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমান সম্ভাবনার যুগে নিজেদেকে নতুন ঊচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত আলোচনা শেষে তিনি বলেন, দুদেশের সম্পর্ক নিজেদের সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কানেকটিভিটি নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তা বাস্তাবায়ন হলে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আমরা সহায়ক হব।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের আলোচনা ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক। আমরা পরস্পরের উদ্বেগ ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে অবগত রয়েছি। দ্বিপাক্ষিক সব বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং আমি উভয়ই এ বিষয়ে সম্মতি হয়েছি যে, কানেক্টিভিটি শুধু দুই দেশের নয় এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

ভারতের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘ভারত গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত ছয় বছর ধরে ৬% বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সবগুলো অর্জন করতে পেরেছি। ভারতও আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশি দেশ। আমরা পরস্পর উন্নয়ন সহযোগি। আজকে এই অপরাহ্নে খুবই ফলপ্রসূ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে।’

এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হয়—যার মধ্যদিয়ে দশকের পর দশক অবরুদ্ধ জীবন কাটানো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের মুক্তির পথ খুলেছে।

এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশের পক্ষে এ দলিল বিনিময় করেন। এ সময় ওই চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যপদ্ধতি সম্বলিত পত্রও বিনিময় করা হয়।

দলিল বিনিময়ের এই মূহূর্তটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ এক টুইটে লিখেছেন, এই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে শুধু ঐতিহাসিক বললেও কম বলা হয়।

ফিরে দেখা কিছু কথা:

গত মে মাসে ভারতের পার্লামেন্টে সীমান্ত বিল নামে পরিচিতি পাওয়া সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়ার পর তাতে অনুসমর্থন জানায় দেশটির মন্ত্রিসভা, তাতে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই সমস্যার সমাধানের পরই বাংলাদেশ সফরের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন মোদি।

উত্তরাধিকার সূত্রে ভারতের স্থল সীমান্ত নিয়ে এ সমস্যাটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। অবিভক্ত ভারতের অংশ থেকে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই সমস্যার অবসানে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়। এর আওতায় ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের দিক থেকে সব প্রক্রিয়া ঠিক করা হলেও তা আটকে ছিল ভারতের দিকে। কারণ ভূমি ছাড়তে হলে ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হয়।

এর মধ্যে ২০১১ সালে ভারতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়।

এরপর কংগ্রেস সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও তার মধ্যেই নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি, প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি।

তবে কংগ্রেস সরকারের সেই উদ্যোগকে সফল করতে আরও সচেষ্ট ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি জানানো আঞ্চলিক দলগুলোকে নিজের মতে নিয়ে আসেন।

ছিটমহল নিয়ে তথ্য:

বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, এতে রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষের বাস। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪ হাজার। ২০১১ সালে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে শুমারিতে এ তথ্য পাওয়া যায়।

ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন মোট ৭১১০ একর; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭১৬০ একর।

চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (৭১১০ একর জমি) ভারতের অংশ হয়ে যাবে। আর ভারতের ১১১টি ছিটমহল (১৭১৬০ একর জমি) বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে।

ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ভারত যে প্রায় ১০ হাজার একর জমি বেশি হারাবে, সে জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না বলে প্রটোকলে উল্লেখ রয়েছে।

এগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।

প্রটোকলের আওতায় অপদখলীয় ভূমি নিয়ে বিরোধের অবসানও ঘটবে। এতে ভারত অপদখলীয় ২৭৭৭ একর জমির মালিকানা পাবে। আর ২২৬৭ একর জমির উপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে।

আর চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী ছিটমহলবাসী তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নিতে পারবেন।

শনিবার সকালে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ