পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় যে হামলা হয়েছে তার ভিডিও ফুটেজ আছে তা দেখে দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
শনিবার ঘটনাস্থল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে পুরান ঢাকার হোসনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হামলা চালানো হয়েছে।
রাতে কোনো ধরনের মিছিল না করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা ছিল— তারপরও রাতে মিছিল বের করা হয়। কীভাবে এই হামলা হলো ও কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।
হামলায় ৬০ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, অনেকেই পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দু-একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকে না বসলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পুলিশ সদরদপ্তরকে টেলিফোনে সব রকমের নির্দেশনা দিয়েছে।
এ হামলা হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা হিজবুত তাহরীর এধরনের কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলা চালিয়ে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গতকাল রাজধানীর গাবতলীতে চেকপোস্টের সামনে এসআই হত্যাকাণ্ড (ইব্রাহিম মোল্লা), তাজিয়া মিছিলে হামলা এবং আগামী মাসে যুদ্ধাপরাধীদের যে রায় দেয়ার কথা রয়েছে সবকিছুই এ হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত ছাড়া কোনো কিছু সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।
রাতেই ঘটে যাওয়া ঘটনাস্থলে পরিবেশ অনেকটাই বিক্ষিপ্ত। সেখানকার মানুষের মধ্যে ভর করেছে আতঙ্ক। আগে থেকেই ঘটনাস্থলের চারপাশ ঘিরে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাবলয়। কয়েকদিন ধরেই চলছিল পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি। শুক্রবার গভীর রাতে হোসনি দালান এলাকায় একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিছিলে যোগ দিতে হাজার হাজার মানুষ তখন সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।