শুধু ভুল স্বীকার নয়, সৎ সাহস থাকলে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।
আমাকে (শেখ হাসিনা) দুর্নীতিবাজ প্রমাণে বার বার মিথ্যা সংবাদ ছাপছিলেন –অভিযোগ তুলেন শেখ হাসিনা।
সাবেক সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মাইনাস টু ফর্মুলার মাধ্যমে তাকে ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে দুই পত্রিকার সম্পাদক জড়িত ছিলেন কি-না, প্রশ্ন তুলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, তাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে মাহফুজ আনাম ডিজিএফআই এর দেয়া বহু মিথ্যা খবর ছাপিয়েছেন— যার খেসারত পুরো দেশবাসীকে দিতে হয়েছে, মিথ্যা তথ্য ছেপে মাইনাস টু ফর্মুলার মতো ষড়যন্ত্র করারও বিচার হবে।
এক এগারোর সেনাসর্মথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ের পাঠানো ভুল সংবাদ ছাপানোর জন্য দি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে পদত্যাগ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওইসময় ডিজিএফআইয়ের দালালি করেছেন –এ কথা জানিয়ে গণতন্ত্র হত্যা আর সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য বিচার হবে এ সম্পাদকের বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার আদায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা এদেশের সকল অর্জনে ভূমিকা ছিল বঙ্গবন্ধু আর আওয়ামী লীগের।
বিগত ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির দুঃশাসনের কারণেই জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল।
দুটি পত্রিকা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সেসময় বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ ছাপানো প্রসঙ্গে বলেন, তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সেদিন কি সখ্যতা ছিল ডেইলি স্টার সম্পাদকের?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে সেদিন তাকে নির্জন সেলে আটকে রাখা হয়েছিল ১১ মাস— তুলে ধরেন বন্দি জীবনের কথা।
মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলার জন্য বিবৃতিদানকারীদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ওয়ান ইলেভেনের নেপথ্যে জড়িত থাকলে গণতন্ত্র হত্যা ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে দু'জন সম্পাদককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে- বলেন তিনি।
দলের যারা এ বিষয়টি নিয়ে চুপ রয়েছেন তাদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্য বলতে কোনো ভয় নেই।